দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনা খাদ্য ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে চীনা খাদ্য ও পানীয় ব্র্যান্ডগুলো।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে চীনা খাদ্য ও পানীয় ব্র্যান্ডগুলো। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন চেইনের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পাশাপাশি বেইজিংয়ের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখছে এসব ব্র্যান্ড। খবর এপি।

এরই মধ্যে স্টারবাকস ও ম্যাকডোনাল্ড’সকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বাধিক আউটলেটবিশিষ্ট এফঅ্যান্ডবি (ফুড অ্যান্ড বেভারেজ) চেইন হয়ে উঠেছে চীনা পানীয় জায়ান্ট মিক্সু গ্রুপ।

মিক্সু বিংচেং নামে পরিচিত এ প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিষ্টিপ্রিয় ভোক্তাদের লক্ষ্য করে কম খরচে আইসক্রিম, কফি ও বাবল টি সরবরাহ করছে।

এ বিষয়ে অনলাইন ব্যবসায়ী রাহমা ইউলিয়ানা বলছিলেন, ইন্দোনেশিয়ায় জনপ্রিয় একটি কথা হলো, ‘যেকোনো খালি দোকান খুব দ্রুত মিক্সু স্টোরে পরিণত হবে’। তিনি আরো জানান, মেয়েকে স্কুল শেষে ১ ডলার ১০ সেন্টের একটি ব্রাউন সুগার মিল্ক টি কিনে দেন, যা জনপ্রিয় তাইওয়ানি চেইন চ্যাটটাইমের তুলনায় অনেক সস্তা। মিক্সুর আইসক্রিম মাত্র ৫০ সেন্টে পাওয়া যায়, যা ম্যাকডোনাল্ড’সের তুলনায় কম দাম।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিক্সু গ্রুপের আউটলেট ছিল ৪৫ হাজারের বেশি, এর মধ্যে ৪০ হাজার চীনের ভেতরেই। স্টোরের এ সংখ্যা স্টারবাকস ও ম্যাকডোনাল্ড’সের তুলনায় বেশি।

চীনা গবেষণা সংস্থা মোমেন্টাম ওয়ার্কস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চীনা এফঅ্যান্ডবি ব্র্যান্ডগুলোর ৬ হাজার ১০০-এর বেশি আউটলেট খোলা হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এর মধ্যে ভারত ও ভিয়েতনাম মিলিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ হিস্যা ধরে রেখেছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চীনা ভাষাভাষী থাকায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি চীনা ব্র্যান্ড রয়েছে।

মিক্সুর পাশাপাশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে হাইডিলাও হটপট, ফিশ উইথ ইউ সাওয়ারক্রাউট ফিশ রেস্টুরেন্ট এবং পানীয় ব্র্যান্ড লাকিন কফি, হেইটি ও চাজি।

মোমেন্টাম ওয়ার্কসের সিইও জিয়াংগান লি বলেন, ‘চীনা ব্যবসাগুলো নিজ দেশে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হওয়ার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ খুঁজছে।’

তার ভাষ্যে, চীনা ব্র্যান্ডগুলো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষতা বাড়াচ্ছে এবং অনলাইন মার্কেটিংয়ে খুব পারদর্শী। পশ্চিমা বড় ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত স্থানীয় অংশীদার খুঁজে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করতে অনেক সময় নেয়, তবে চীনা কোম্পানিগুলো এতটা সময় নেয় না।

ব্যাংককে চীনা উদ্যোক্তা সিয়া হান এরই মধ্যে ১২টি মিক্সু স্টোর ও আরো ১০টি আউটলেট খুলেছেন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মসলাযুক্ত ব্রথ, সাওয়ারক্রাউট ফিশ ও ফ্রাইড চিকেন বিক্রি হয়। তিনি ছয় বছরে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছেন। সিয়া হান বলেন, ‘কিছু শপিং মলের আউটলেটে খরচ তুলতে সময় লাগে, কারণ ভাড়া বাবদ বিশাল অগ্রিম জমা দিতে হয়। তবে অন্য স্টোরগুলো সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে লাভজনক হয়ে ওঠে।’

সঙ্গে এও যোগ করেন, ‘চীনা রেস্টুরেন্ট যদি ধীরে ধীরে খোলা হয়, তাহলে টিকে থাকা কঠিন।’

কুয়ালালামপুরে চীনা সাওয়ারক্রাউট ফিশ চেইন ফিশ উইথ ইউর ভাইস প্রেসিডেন্ট লিউ লিউজুন জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ চীনা জনগোষ্ঠী ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি তাদের মূল লক্ষ্য। তাদের মালয়েশিয়ার একটি আউটলেটের ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার বিনিয়োগ মাত্র নয় মাসেই উঠে এসেছে।

হংকংয়ের চাইনিজ ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান অধ্যাপক গর্ডন ম্যাথিউসের মতে, চীনের খাদ্য ও পানীয় ব্র্যান্ডগুলোর সম্প্রসারণ এটাই বোঝায় যে চীনা পণ্য শুধু সস্তা নয়, বরং এর প্রায়োগিক মূল্যও রয়েছে। তার মতে, ম্যাকডোনাল্ড’স যখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন এটি সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তার করেছিল। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ চীনের গুয়াংজু শহরে ম্যাকডোনাল্ড’সের প্রথম আউটলেট দেখার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একজন কর্মচারী আমাকে বলেছিলেন, ‘‘আমি আমেরিকা যেতে চাই’’।’

যদি চীনা খাদ্য ব্র্যান্ডগুলো বৈশ্বিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাদেরও এমন সাংস্কৃতিক প্রভাব থাকতে পারে, যদিও পরিণতি কেমন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত গর্ডন ম্যাথিউস।

আরও